top of page

জোনা ফলস

Updated: Apr 23, 2019

আজ একটা ছোট্ট ঝটিকা সফর এর গল্প বলি। একটা বিশেষ কাজে আগস্ট মাসে পুরুলিয়া তে এক

আত্মীয়ের বাড়ি যেতে হয়েছিল। পুরুলিয়া বললে ভুল বলা হবে। গ্রামটির নাম তুলিন যা একেবারে

ঝারখন্ড এর বর্ডার এ। আমাদের ট্রেন থেকে নামতেও হয়েছিল ঝারখন্ড এর মুরি জংশন। সেখান থেকে

পশ্চিমবঙ্গ বর্ডার পেড়িয়ে ১৫ মিনিট এলেই তুলিন নামে এক ছোট্ট সুন্দর গ্রাম।

বর্ষা কাল, মাঝে মাঝে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি চলছে। তো বিকাল বেলা মনে হল একটু কাছে কোথাও থেকে

বেড়িয়ে আসি। একটা গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। ঘড়ীতে তখন ৪টে বেজে গেছে। সামনে কি আছে

বলতে ড্রাইভার বলল কাছে জোনা ফালস আছে আর একটু দূরে হুড্ড্রু ফলস। কিন্তু সব ফলস এ

যাওয়ার অনুমতি মেলে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত। তাহলে হুড্ড্রু যাওয়া সম্ভব নয়। জোনা ফলস টাই যাওয়া

যাক(আমার হুড্রু আগেই বেড়ানো আছে)। ৩৪কিমি গিয়ে বাঁদিকে বাঁক নিল গাড়ি। তবে এখানে আরও

একটা কথা বলে রাখি। আগে যতবার ঝারখন্ড বা পুরুলিয়া এসেছি সব শীতকালে আর জায়গা টাকে

খুব রুক্ষ দেখেছি। এই অঞ্চল যে এত সবুজ, এত প্রাণবন্ত আগে কখনই দেখিনি। এ এক অন্য আবিস্কার

এর আনন্দ।


জোনা ফলস যাওয়ার পথে

যখন আমরা জোনা ফলস এর এন্ট্রি গেটে এলাম তখন ঘড়ি বলছে ৫টা বেজে গেছে আর প্রবেশ বন্ধ।

স্থানীয় একজন এগিয়ে এলেন আমাদের দিকে আর বললেন ১০০টাকা দিলে উনি নিজে গিয়ে আমাদের

ঘুরিয়ে আনবেন। যথারীতি উপায় নেই দেখে তাই করতে হল। মিলিটারি দের উনি বুঝিয়ে এলেন আর

আমাদের ছাড়পত্র মিলল তবে তা ১৫-২০মিনিট এর জন্য। এর পরেই দেখলাম যে ১৫-২০মিনিট, অনেক

সময় মনে হচ্ছিল তা অতি সামান্য কারণ আমাদের ৭২২ ধাপ সিরি নামতে হবে আবার উঠেও আসতে

হবে, সময় নষ্ট নয় একেবারেই। খুব দ্রুত শুরু হল সিরি দিয়ে নামা। তবে যে দৃশ্য চোখের সামনে

ভেসে এল তা এক কথায় অবর্ণনীয়। মুলত বর্ষার জলে পুস্ট হওয়াও, ভারত বর্ষের বেশির ভাগ

জলপ্রপাত এর রূপ খোলে বর্ষায় আর আমরা ছূটে যাই শীতে যেটা একেবারেই ভুল সময়। অবিরাম

অনন্ত বারিধারা আছড়ে পড়ছে ৪৩মিটার উপর থেকে। আহা প্রান জুরিয়ে গেল। মন চায় না ফিরে

যেতে। সূর্যি মামা মুখ ঢেকেছে, মিলিটারি দের তাড়াও আছে। খুব বেশী সময় থাকা গেল না।





358 views0 comments

Recent Posts

See All

Opmerkingen


bottom of page