top of page

বকখালি সঙ্গে ভগবতপুর(#Bakkhali #Bhagabatpur)

Updated: Apr 23, 2019

ভোর ৪.৩০টে ফোনের এলারম বেজে উঠতেই উঠে প্রস্তুত হয়ে নিলাম। টার্গেট ছিল ৫.৩০ এ

বেড়িয়ে পরব, কিন্তু যেহেতু আমাদের সঙ্গী আরও ৩ টি বাইক তাই ফাইনালি ৬ টায় যাত্রা শুরু

করলাম। অসাধারণ রাস্তা ধরে ডায়মন্ড হারবার পেড়িয়ে এগিয়ে চললাম এই ভুখন্ডের শেষ

বিন্দু বকখালির দিকে। ৪ টে বাইক, ৮জন আর ২ টি বাচ্চা এই সফর সঙ্গী। সকাল ৮টায়

কাকদ্বিপ এ দাড়িয়ে একটু চা পানের বিরতি নেওয়া গেল। আর আধ ঘণ্টা পথ পেড়িয়ে এল

নামখানা। এখানেই পথ শেষ কারন মাঝে দিয়ে বয়ে গেছে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদী। এখন ব্রিজ

এর কাজ হয়নি, তাই ভরসা ভেসেল। আমরা সাবধানে ভেসেল পেড়িয়ে ৯.৩০টা তে পউছছে

গেলাম আমাদের হটেলে।


হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদী

পোশাক পরিবর্তন করে আমরা সকাল ১০.৩০টা তে এলাম সমুদ্রের ধারে। এখানে সমুদ্র

সেরক্ম উত্তাল নয়। অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে এখানে চোরাবালি আছে তাই

সাবধানে এগিয়ে গেলাম সমুদ্রের দিকে। অনেক টা দূরে গিয়ে হাটুজল পেলাম। এতেই

খানিকটা সমুদ্র স্নান সেরে হটেলে ফিরলাম।দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে একটু বিস্রাম

নেওয়া যাক।


সমুদ্র স্নান, বকখালি

বিশ্রাম নেওয়াটা অনেক বেশী হয়ে গেল সবার। সবাই যখন রেডি হল আমাদের পরের

গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তখন ঘড়িতে ৫টা। আমাদের পরের গন্তব্য হেনরি আইল্যন্ড।

তরি ঘড়ি সবাই বাইকে উঠে যাত্রা শুরু করলাম। ১০-১৫ মিনিটের রাস্তা। আমরা বাঁধা

পেলাম টিকিট কাউন্টার এ। ৫টায় বন্ধ তাই আর যেতে দেওয়া যাবে না। প্রসঙ্গত বলে

রাখি এখানে আসার জন্য মাথাপিছু টিকিট লাগে ৫টাকা আর গাড়ির জন্য ৫টাকা। সকাল

৬টায় আবার ঢুকতে দেওয়া হবে সেই মর্মে আমরা ফিরে গেলাম। এখন আর হটেল নয়

সোজা ফ্রেজার গঞ্জ মৎস্য বন্দর। সূর্যি মামা মুখ ঢেকেছে গাছের আরালে। দোল

পূর্ণিমা তাই আকাশে নিরেট গোল উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ উকি দিল। দু একটা ছোট

নৌকা জাল থেকে মাছ তুলছে, ছোটো ছোটো মাছ। খানিকটা ভালো লাগা আমাদের কে ৩০

মিনিট আটকে রাখল। এর পর গেলাম ফ্রেজার গঞ্জ বীচে। সন্ধ্যা নেমে এসেছে।

এক্কালের ফ্রেজার সাহেবের বাংলোর ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের তীরে দাড়িয়ে আছে।

জোয়ার এসেছে। এক কাপ চা খেয়ে একটু এনার্জি নেওয়া যাক।এর পর আবার আমরা

এগিয়ে গেলাম বকখালি বীচে। সন্ধ্যায় অনেকটা সময় কেটে গেল সমুদ্রের দিকে

তাকিয়ে।


সমুদ্রের ধারে আমরা সবাই


আজ সবাই খুব ভোর ভোর উঠে পড়লাম। সবাই ৬টায় রেডি হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম হেনরি

আইল্যন্ড এর উদ্দেশ্যে। সকালের বাতাস টা বেশ ঠাণ্ডা। ভোরের সোনা রোদ গায়ে

মেখে এসে গেলাম হেনরি আইল্যন্ড। উন্মুক্ত বাতাসে প্রান ভরে নিশ্বাস নিলাম। ছোটো

ছোটো লাল কাঁকরা ইতি উতি ছুটে বেড়াচ্ছে বিচের নরম মাটিতে আর কাছে গেলেই প্রবেশ

করছে তাদের গর্তে। বেশ খানিকটা ধরাধরি খেলা চলল। ওই দূরে একটা ছোট নৌকা মাছ

ধরার জাল গোঁড়াচ্ছে। চারিদিকে ছড়িয়ে অজস্র ঝিনুক, অনেক মালা গাথা যাবে। প্রান

ভরে গেল এর নিস্তব্ধটা আর প্রকিতির সানিধ্যে। ভিউ টাওয়ার থেকে দৃশ্য টা খুব

একটা পরিস্কার নয়, ভোরের কুয়াশা এখনও আছে। গরম গরম কফি এই পরিবেশে জমিয়ে

দিল আজকের দিনের শুরুটা।



হোটেল এ ফিরে সবাই রেডি হয়ে গেলাম। ৯টায় check Out করে আবার গেলাম বকখালি

বীচের কাছে। ভালো করে সকালের Break fast করে সোজা ঢুকে গেলাম বকখালি কুমির

ও হরিণ প্রকল্পে। ছিমছাম সুন্দর জায়গা। পুকুরের মধ্যে কয়েকটা কুমীর সাঁতার দিচ্ছে।

আমাদের দিকে তাকাবার কোনো অবকাশ নেই তাদের। তবে আমাদের দিকে বেশ

অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল যারা, তারা র কেউ নয়, চিতল হরিণ। বেশ চনমনে। চারিদিকে

ছুটে বেড়াচ্ছে। পাশে দোলনায় একটু দুলেও নিতে পারেন।


ডিয়ার পার্ক, বকখালি


আমরা বেশিক্ষণ না দুলে বাইক নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ফিরতি পথে। আবার এসে গেলাম

নামখানা, যেখানে ভেসেল করে আমাদের আর আমাদের বাহন গুলোকে নদী পার করতে

হবে। লম্বা লাইন ছিল, কিন্তু বাইক তো তাই আগে জায়গা পেয়ে গেলাম। আমরা দুপুর

১২টায় এলাম কাকদ্বীপ। না কোন দ্বীপ নয়, নামখানা যাওয়ার পথে, ডায়মন্ড হারবার

রোডের উপরের এক জমজমাট মফস্বল। আমরা এখানেই দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম।

না আমরা এত সহজে বাড়ি ফিরছি না। আমরা যাব এই কাকদ্বীপ থেকে ৪০ কিমি দুরের

ভগবতপুরে। যেখানে আছে বিরাট বড় কুমীর প্রকল্প। যাদের পুকুরের মধ্যে দু একটা

কুমীর দেখে মন ভরে না, তারা অবশ্যই এ জায়গাটা মিস করবেন না। রাস্তা যে খুব একটা

সুগম তা বলা যায় না। দুভাবে যাওয়া যায় এই ভগবতপুর। কাকদ্বীপ পাথর প্রতিমা হয়ে

গ্রামের মধ্যে দিয়ে স্থলপথে আর নামখানা থেকে লঞ্চে করে জলপথে। আমরা বাইক

নিয়ে স্থলপথেই যাত্রা শুরু করলাম। গ্রামের সরু রাস্তা পেরিয়ে আমরা গেলাম

ভগবতপুর। আর এখানে এসে অবাক হয়ে গেলাম। কুমিরের ডিম থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ

কুমির হয়ে ওঠা পর্যন্ত সমস্ত বয়সের প্রচুর কুমিরের এক অসাধারণ সমাহার এখানে।

এখানে কুমিরের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সমস্ত পর্ব গুলোকে প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।

তবে ভুলেও তাঁদের কাছে যাওয়ার বা তাঁদের কে আঘাত করার চেষ্টা করবেন না।



বেশ কিছুক্ষন কুমির দেখতে দেখতে সময় কেটে গেল। অনেকটা রাস্তা ফিরতে হবে। আমরা

কুমিরদের বিদায় জানিয়ে ফিরতি পথে যাত্রা শুরু করলাম। পড়ন্ত রোদ্দুর যখন পশ্চিমে

ঢলে পড়েছে তখন আমরা ডায়মন্ড হারবার নদীর তীরে...।। সমাপ্ত।


ফেরার পথে


124 views0 comments

Recent Posts

See All

Comments


bottom of page