top of page

অচেনা সিমলিপাল ৪র্থ পর্ব-

সিমলিপাল জঙ্গল বেড়ানো সাঙ্গ হল। আগের প্ল্যন মত আমাদের যাওয়ার কথা পঞ্চলিঙ্গেসর আর

সবশেষে চাদিপুর। কিন্তু সবাই মানে বাসের সব্বাই বলল আমরা যে পথে বালাসোর থেকে করনজিয়া

এসেছি সেই ভয়ঙ্কর ঘাটি পেড়িয়ে আর সেই রাস্তায় ফিরব না। সুতরাং আর যে রাস্তা আছে তা হল

বাংরিপোশি হয়ে বারিপাদা দিয়ে আসতে হবে আর তাহলে আমরা পঞ্চলিঙ্গেসর বা চাদিপুর যেতে

পারবো না। ছিন্তা শুরু হল। লোকাল একজন দাদা খুব হেল্প করলেন। বললেম অনেক জঙ্গল ঘুরলেন

এবার মায়ের পায়ে পুজা দিন আর সঙ্গে একটা দুর্দান্ত পিকনিক করে নিন।


পরেরদিন সকালে সেই দাদার কথা মত রাস্তায় আমরা এগিয়ে গেলাম বাস নিয়ে। আমরা চলেছি তারিনি

মন্দির। উড়িষ্যার খুব জাগ্রত দেবী এই তারিনি মাতা। আমরা করনজিয়া থেকে এগিয়ে চললাম

কেওনঝার এর দিকে। তার কথা মতই পেয়ে গেলাম সে পথে বৈতরিনি নদী। এই নদীর ধরে গড়ে উঠেছে

নতুন এক শিব মন্দির। খুব সুন্দর মন্দিরের কারুকার্য আর তার থেকে অসাধারণ এর পরিবেশ। কিছু

সময় কাটিয়ে আমরা আবার এগিয়ে চললাম।

প্রায় ৩০-৪৫ মিনিট চলার পর এল তারিনি মন্দির এর গেট। পাশে বিরাট পারকিং লট। প্রচুর গাড়ির

ভীর ঠিক যেন আমাদের কোলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি। রাস্তায় অনেক দোকান পুজার ডালা

কেনার জন্য। গেটে চেকিং পেড়িয়ে আমরা প্রবেশ করলাম মন্দির এর মধ্যে। খুব খোলামেলা পরিবেশে

মায়ের আধিস্থান। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মাকে দর্শন করা যায়। ভিতরে পুজা দিয়ে আমরা পারকিং এ এসে

টিফিন করে নিলাম।

আবার আমাদের পথ শুরু হল। এবার কেওনঝার শহরে এসে গেলাম। ম্যপ ধরে বা দিকে বেঁকে আর একটু

এগিয়ে জেতেই শুরু পাহাড়ি রাস্তা। খাড়াই ঘাটি একটা, তবে রাস্তা অনেক প্রশস্ত বড় গাড়ি চলাচলের

উপযুক্ত। পাহাড়ের ঠিক মাথায় উঠে সবাই অবাক হয়ে গেলাম। নিপে দেখা যাচ্ছে অসাধারণ কেওনঝার

শহর। এটা ভিউ পয়েন্ট। এর থেকে কিছুটা এগিয়েই পেয়ে গেলাম আমাদের আজকের পিকনিক স্পট- সান

ঘাঘরা জল প্রপাত। সত্যি বলছি নামটা ত একেবারেই অজানা এমনকি জায়গাটা কি আছে তাও জানি না।

গাড়ির একটা প্রবেশ মুল্য আছে, আর প্রত্যেকের আলাদা করে টিকিট আছে। সবকিছু করে আমরা

একটা উন্মুক্ত কিন্তু সাজানো পিকনিক স্পট এ এলাম। এখানে আমাদের রান্না হবে আর আমরা ঘুরে

দেখব এই জায়গাটা। অনেক গাড়ি এসেছে পিকনিক করতে। আমরা টিকিট নিয়ে এগিয়ে গেলাম একটা

ঝিল এর ধারে প্রবেশ পথে। টিকিট চেক করে সবাইকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। কিছু এগিয়ে এলতা বাধানো

সিঁড়ি উপরে উঠে গেছে। বাঁদর ও আছে দু একটা। ৫০-৬০ টা সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে গিয়ে দেখলাম একাটা

সাজানো বাগান, আর একপাশে থেকে জলের গর্জন আসছে। সেই দিকে এগিয়ে গিয়ে অবাক হয়ে গেলাম।

একটা সুন্দর ঝর্না, উত্তাল বেগে ভেঙ্গে পড়ছে। তার জল ধোয়া হয়ে সবাইকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। এক

অপূর্ব পরিবেশ। খানিকটা নির্জন, জঙ্গলের ছোঁয়া সব কিছু নিয়ে একটা ভালোলাগা তৈরি হল। সঙ্গে

পার্ক আছে বাচ্চা দের জন্য। আমরা অনেকটা সময় কাটালাম। এর পর ধীরে ধীরে নেমে এলাম

আমাদের বাস এর কাছে। খাবার রেডি। দুপুরের খাওয়া হল বিকালে। এর পর সন্ধ্যা নামার আগেই

আমরা গাড়ি নিয়ে আর অনেক স্মৃতি নিয়ে ফিরে চললাম বারিপাদা হয়ে কোলকাতার দিকে। আমাদের এই

ভ্রমণ শেষ করলাম। অনেক অজানা অচেনা স্থান আমাদের স্মিতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

56 views0 comments

Recent Posts

See All

Komentar


bottom of page